The Kattuya case is now pathan court - কাঠুয়া মামলা এখন পঠানকোটে হাতে

The Kattuya case is now pathan court -

 কাঠুয়া মামলা এখন পঠানকোটে হাতে

 

 

কাঠুয়ায় নির্যাতিত শিশুটির বাবা আর্জি জানিয়েছিল এই মামলাকে ভিন্‌ রাজ্যে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কারন তিনি আশঙ্কা করছেন যদি কাঠুয়া কিংবা জম্মুতে শুনানি হয় তাহলে কখনওই নিরপেক্ষ বিচার হবে না। সুপ্রিম কোর্ট সেই আর্জি মেনে নিয়ে মামলাটি কে জম্মু-কাশ্মীর আদালত থেকে সরিয়ে পঞ্জাবের পঠানকোটে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
আজ বিচারপতি দীপক মিশ্রের বেঞ্চ জানায়, আদালতে বন্ধ দরজার ভেতরে এই মামলার শুনানি হবে।ফাস্ট –কোট আদালতে অধীনে প্রতিদিন এই মামলার শুনানি করা হবে। সময় নষ্ট না করে দ্রুত  এই মামলাটির রায় দিতে হবে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে মামলাটি কে পঠানকোটে সরিয়ে নিয়ে আসা হলেও কাশ্মীরের রণবীর দণ্ডবিধির আইন অনুযায়ী শুনানি করা হবে ( জম্মু – কাশ্মীর সংবিধান আলাদা ভারতীয়  দণ্ডবিধি কার্যকর হয় না, সেখানে রণবীর দণ্ডবিধি অনুযায়ী এখানে কাজ করা হয়।)

কোর্ট তরফ থেকে  ধর্ষীতা শিশুটির বন্ধুবান্ধব, পরিবার পরিজন ও আইনজীবীকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি দীপক মিশ্রের বেঞ্চ কাঠুয়া-কাণ্ডের অভিযুক্ত নাবালকের নিরাপত্তার ব্যবস্থার জন্যও রাজ্য পুলিশের উপর দায়িত্ব দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এদিন জানান, যেই মামলায় অভিযুক্ত, অভিযোগকারী ও সাক্ষীরা নির্ভয়ে নিরাপদে আদালতে আসতে পারবেন এবং  নির্ভয়ে  সাক্ষী দিতে পারবেন এক মাত্র সেই মামলায় সুবিচার পাওয়া সম্ভব।

সুপ্রিম কোর্টে  পঠানকোট জেলা বিচারককে অধীনে মামলার শুনানি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। এই মামলার বিচারে অন্য কোনও কোর্টে বিচারক হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। মামলার  যাবতীয় তথ্য কে  উর্দু থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করার ও  নির্দেশ দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট জম্মু-কাশ্মী রাজ্য সরকারকে এই মামলার জন্য এক জন দক্ষ্য সরকারি আইনজীবী নিযুক্ত করার অনুমতি দিয়েছে।

কাঠুয়ার শিশুটির বাবা সুপ্রিম কোর্ট কে করা এই আবেদনের সাথে এই ঘটনার সাথে জড়িত দুই অভিযুক্তর বিরুধে  সিবিআই তদন্তের আর্জি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আর্জি সুপ্রিম কোর্ট মেনে নিতে রাই নয়।  বিচারপতি বেঞ্চের তরফ থেকে জানান হয়, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত করছে, ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের তরফ থেকে চার্জশিট পেশ করেছে পুলিশের অপরাধ দমন শাখাতে। পরবর্তী সময় যদি সিবিআই তদন্তের প্রয়োজন হয় তখন সেটা ভেবে দেখা যাবে। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, ‘‘কোটে যখন চার্জশিট দাখিল করা হয়ে গিয়েছে, তখন  অন্য কোনও সংস্থার কী কোন প্রয়োজন আছে।’’

দীপিকা সিংহ রাজওয়াত যিনি নির্যাতিতা শিশুটির পরিবারের আইনজীবী তিনি স্বাগত জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে। তিনি জানিয়েছেন, “ আমি এই রায়ে খুবই খুশি। আমরা শুধু চেয়েছিলাম যাতে জম্মু-কাশ্মীরের বাইরের দেশের যেকোন আদালতে এই মামলার শুনানি হোক, কাঠুয়ার আদালতেই যে  এই মামলা পাঠাতে আমাদের এমন কোন দাবি ছিলনা, আমি এ বার অন্তত এটুকু নিশ্চিন্ত হতে পারলাম, মামলার শুনানি এবার সঠিক ভাবে হবে। ওই শিশুটির পরিবার পরিজন নিরাপদে এবার সাক্ষ্য দিতে পারবেন।“ কাঠুয়ার শিশুটির বাবা – মাও খুশি প্রকাশ করেছেন। শিশুটির  মা আজ জানান, ‘‘কাঠুয়ায় যদি শুনানি চলত, তাহলে কিছুতেই  আমরা  সুবিচার পেতাম না, দোষীরা কোন ভাবেই শাস্থি পেত না। ছাড়া পেয়ে এসে আমাদের খুন করত। ওদের যেই দিন ফাঁসি কাঠে ঝোলানো হবে, সেই দিন আমরা সব চেয়ে বেশি খুশি হব।’’

মামলাটি কে সুপ্রিম কোর্ট  পাঠানকোট আদালতে শুধু পাঠিয়েছে তা নয়, সেই সাথে বেশ কিছু নির্দেশও দিয়েছেন। বলা হয়েছে, মামলার শুনানি প্রতিটি মুহুতকে ক্যামেরা বন্ধী করতে হবে। শুনানির প্রতিটি মুহুতকে রেকর্ড করতে হবে, যদি পরে কোনদিন দরকার পড়ে তাহলে যাতে সেই রেকর্ড গুলিকে কাজে লাগানো যায়।

সুপ্রিম কোর্টের তরফ  থেকে আরও জানান হয়েছে, অভিযোগ কারিদের কথা শুনে এই মামলার কোন  সিবিআই তদন্ত করা  হবে না। রাজ্য পুলিশ এখন যেভাবে এই ঘটনার তদন্ত  করছে সেভাবেই এর তদন্ত  করা হবে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট পাঠানকোট আদালতে জম্মু ও কাশ্মীর সরকারকে তরফ থেকে আইনজীবী নিয়োগের করার অনুমতি দিয়েছে। তারসাথে শিশুটির পরিবার কে রাজ্য পুলিশের তরফ থেকে  নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ৯ জুলাই এই  মামলার  পরবর্তী শুনানি হবে।