North Korea, under the pressure of the White House- হোয়াট হাউসের চাপের মুখে উত্তর কোরিয়া

North Korea, under the pressure of the White House- হোয়াট হাউসের চাপের মুখে  উত্তর কোরিয়া

  

দুই রাষ্ট্রনেতার মুখোমুখি সাক্ষাতের আগে শোনা যাচ্ছিল অনেক ভালো ভালো কথা। উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উনের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের  সম্পর্কে অনেক প্রশংসা করছিলেন। কিম তাঁর চিরাচরিত ভাবমূর্তি ‘পাল্টানোর’ জন্য  আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছেন, তাঁর সেই চেষ্টা সংবাদমাধ্যমের নজর এড়াতে পারেনি। কিম চাইলেও এখন তাঁর ভাবমূর্তির পরিবর্তন করতে পারবেননা। মার্কিন বিদেশ দফতর সেটাই বুঝিয়ে দিতে চাইলেন।
কূটনীতিকদের মতে,  উত্তর কোরিয়াতে ঘটে যাওয়া একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাতে এখন সমাপ্তি ঘটেছে, কিন্তু অনেকেই সেটা মানতে পারছেন না।  মার্কিন বিদেশ দফতরের তীব্র তিরস্কার ট্রাম্প-কিমের সম্পর্কের অবনতি ঘটাল। মার্কিন বিদেশ দফতরের তরফ থেকে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়, “ উত্তর কোরিয়ায়তে বিশ্বের অন্যতম অত্যাচারী এবং দমনমূলক সরকারের শাসন কাল চলছে।“  মার্কিন বিদেশ দফতরের এই বক্তব্য ট্রাম্প-কিমের সম্পর্কে অবনতি ঘটাল।
হোয়াট হাউস  এক সময়  উত্তর কোরিয়ার  শাসকে  "লিটল রকেট ম্যান" নামে ব্যঙ্গ করেছিল, সেই হোয়াট হাউস   এখন কিম জং উনের ব্যাপারে  মুখে কুলু পেতেছেন। মার্কিন বিদেশ দফতর উত্তর কোরিয়ার প্রশাসনকে তিরস্কার করেছেন,  উত্তর কোরিয়ায় বেশ কয়েক বছর ধরে চলে আসা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার জন্য। মার্কিন বিদেশ দফতরের মুখপাত্র হেদার নোয়ার্ট সাংবাদিক দের দেওয়া বিবৃতিতে বলেছেন,  ‘‘উত্তর কোরিয়ার মানুষ গত ৬০ বছরে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাক্ষী হয়েছেন। ওই দেশে শিশু-সহ অন্তত এক লক্ষ মানুষকে রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে রেখে দেওয়া হয়েছে।তাঁরা মৌলিক  অধিকার থেকেও পুরোপুরি বঞ্চিত হয়ে আছে । আর এই দমনমূলক রাষ্ট্র থেকে পালতে গিয়ে যদি   ধরা  পড়ে তবে মৃত্যু অবধারিত, না হলে সহ্য করতে হয় অকথ্য নির্যাতন।’’
মার্কিন বিদেশ দফতর  এই সব বিতর্কিত বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন -  “এই ভয়ানক অবস্থার জন্য আসলে  যারা দায়ী,  আমরা তাদের উপরে চাপ তৈরি করা থেকে কোন ভাবেই সরে আসব না। “
আপাতত ট্রাম্পের লক্ষ্য কিমের সঙ্গে  বৈঠক করা, সেই বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে যে করেই হোক পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি আদায় করতে হবে। কিছু দিন আগে কিম প্রশাসন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রশাসনের কাছে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের ব্যাপারে কিছু বক্তব্য জানিয়েছে। সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, কিম জং উন বলেছেন - ‘‘আমেরিকা যদি উত্তর কোরিয়ায় আক্রমণ না করে তাহলে,তাদের তরফ থেকে  পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে জন্য কোনও বাধা নেই।’’
তবে মার্কিন বিদেশ দফতর উত্তর কোরিয়ার উপরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় নিয়ে কিভাবে  চাপ  সৃষ্টি করতে চাইছে সেটা এখন স্পষ্ট হয়নি। মার্কিন বিদেশ দফতরের মুখপত্র জানিয়েছেন, ‘‘আমরা চাই বিচ্ছিন্ন এই দেশটি থেকে যতটা  সম্ভব নিরপেক্ষ তথ্য বাইরে নিয়ে আসতে। পাশাপাশি আমরা এটাও চাইছি বাইরের দুনিয়ার বাস্তব ছবিটা যাতে সে দেশের  কাছে পৌঁছে দি তে।’’ উত্তর কোরিয়া তথ্য আদান-প্রদানের সহজ সরল পথটি কেও শক্ত করে বন্ধ করে রেখেছে। আমেরিকা তাই সেই পথ খুলতেই বেশি আগ্রহী।