মোদির ঝড়ে রাহুলের প্রধানমন্ত্রীত্বের দৌড়ে ফের ধাক্কা খেলেন - Modi's hurricane hit the prime ministerial race again

মোদির ঝড়ে রাহুলের প্রধানমন্ত্রীত্বের দৌড়ে ফের ধাক্কা খেলেন - Modi's hurricane hit the prime ministerial race again


কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধি  এবার  নির্বাচনের প্রচার করতে গিয়ে কর্নাটকের একটি মঞ্চে   তিনি তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। রাহুলের সেই স্বপ্ন ভিত্তিকে কর্নাটকের নির্বাচনের ফল  অনেকটা বড় ধাক্কা দিয়ে নারিয়ে দিয়ে চলে গেল। দেশের বিশিষ্ট রাজনৈকবিদরা মনে করছে অন্তত এমনটাই। কংগ্রেস কর্ণাটকের নির্বাচনের প্রচার প্রথম থেকেই  একাই কংগ্রেস কর্ণাটকে সরকার গড়ার দাবি করেছিল। কর্ণাটকের নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দেখাগেল বিজেপির গেরুয়া শিবিরের ধাঁরেও আসতে পারেনি কংগ্রেস। বিজেপি পেয়েছেন ১০৮-টি আসন, কংগ্রেস পেয়েছেন ৭৮-টি আসন, জেডিএস+ পেয়েছেন ৩৮-টি আসন ও অনান্যরা পেয়েছেন মাত্র ২- টি আসন। একসময় জেডিএস দল কে বিজেপির সমর্থক পার্টি বলেছিলেন, কিন্তু এখন  কর্ণাটকে যদি কংগ্রেসকে সরকার গঠন করতে হয় তাহলে  জেডিএসের সমর্থন প্রয়োজন  পরবে।

 বিশিষ্ট রাজনৈকবিদরা মনে করছেন, একপ্রকার প্রকাশ হয়ে গেল কংগ্রেসের  একার পক্ষে গেরুয়া শিবিরকে আটকানো সম্ভব নয়।  ২০১৯ নির্বাচনে যদি কংগ্রেস ভেবে থাকে যে তাঁরা একাই কেন্দ্রে সরকার গঠন করবে সেটা কোন ভাবেই সম্ভব নয়, কংগ্রেসের  সামনে একমাত্র রাস্তা আঞ্চলিক অনান্য দলের সাথে  জোট বেঁধেই লড়াই করতে হবে। পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী কর্ণাটকের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করার আগেই  টুইট করে  তিনি একই মতামত প্রকাশ করেছেন,  কংগ্রেস সভাপতি-কে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন যদি কংগ্রেস আগেই কর্নাটকের ভোটের হার  হওয়ার পর সোনিয়া গান্ধি মাঠে নামেন কর্মীদের মনবল বাড়ানোর জন্য। তিনি দেবেগৌড়াকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানান, এবং কর্নাটকের জোট বেঁধে সরকার গড়ার আহ্বান জানান।

 তাঁর কথাতেই কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা জেডিএসের সাথে সরকার গঠন করার সিধান্ত মেনে নিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন, রাহুল গান্ধি যে এখন সম্পূর্ণ ভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ নেতা হয়ে উঠতে পারেননি, এতেই সেটা প্রমাণিত হয়ে গেল। কারন বিপদের সময় রাহুল কে এখনও তাঁর মায়ের পরামর্শের প্রয়োজন পরে। রাহুল   গুজরাটের ভোটের আগে যেমন ম্যারাথান প্রচারে  নেমেছিলেন ঠিক একই ভাবে  কর্ণাটকে ভোটের আগে প্রচারে  নেমেছিলেন। কংগ্রেস সভাপতি কর্ণাটকের প্রায় ১৭০ টির আসনে প্রচার করতে গিয়েছিলেন, কংগ্রেস তাঁর মধ্যে থেকে তিনি মাত্র ৬০ টি আসনে  জিতেছে। অন্যদিকে, নরেন্দ্র মোদি কর্ণাটকের যেসব আসনে ভোটের প্রচার করতে গিয়েছিলেন তার মধ্যে  বেশিরভাগ আসনেই গেরুয়াশিবিরের জয় হয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি আরও একবার মোদির জাদুর কাছে হার মানতে হয়েছে তাঁকে। আঞ্চলিক দল গুলির সাথে  জোট কোরত তাহলে ভোটের ফলাফল সম্পূর্ণ অন্যরকম হত। মুখ্যমন্ত্রী  জেডিএস-র নেতা দেবেগৌড়াকে ফোনে করে শুভেচ্ছা জানান তিনি এবং তাঁর সাথে কংগ্রেসের সমর্থন করে কর্নাটকে জোট সরকার গড়ার জন্য আবেদনও তিনি করেন।

 এদিকে, কর্ণাটকের  কংগ্রেসের এমন হারের পর রাহুল প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য কতটা  প্রস্তুত তা নিয়ে যথেষ্ট  প্রশ্ন উঠছে। এই হারের পরে অন্যদিক থেকে  আর একটি প্রশ্ন উঠে আসছে  ২০১৯-র লোকসভা ভোটের সময় কংগ্রেসে যে বিজেপি বিরোধীতা করার জন্য জোট বাঁধবে তার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য কংগ্রেস সভাপতি কতটা  প্রস্তুত আছেন। রাহুল গান্দি কংগ্রেসের ভার নেওয়ার পর থেকে কংগ্রেস কে নির্বাচনের লড়াইতে দেখতে হচ্ছে একের পর এক হারের মুখ,

এরপরেও কি আঞ্চলিক অনান্য  দল গুলির নেতারা রাহুল গান্ধি কে মানবেন তাঁদের নেতা হিসেবে ? এই   প্রশ্ন কংগ্রেসের অন্দর মহলেই এই প্রশ্ন ঘোড়া-ফেরা করছে,এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে ভবিষ্যতে আঞ্চলিক দল গুলির কাজের মধ্যে দিয়ে।