Putin warned the world - পুতিন হুঁশিয়ারি দিল বিশ্বের উদ্দেশ্যে


Putin warned the world - পুতিন হুঁশিয়ারি দিল বিশ্বের উদ্দেশ্যে 

 

সত্যি কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হতে চলেছে? রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ডোনাল্ড ট্রাম্পের  জবাব দিলেন।রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যে পুতিনের নতুন হুঁশিয়ারি দিলেন তার থেকে সেই আশঙ্কাই ক্রমশ  প্রবল হচ্ছে। রবিবার ক্রেমলিনের সাফ জানালেন, ‘‘রাষ্ট্রপুঞ্জকে উপেক্ষা করে পশ্চিমী দেশগুলো ইতিমধ্যেই সিরিয়ায় হামলা চালিয়েছে। নতুন করে হামলা হলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে বলে রাশিয়া মনে করে।’’ পুতিন ‘বিশ্বব্যাপী বিশৃঙ্খলা’ বলতে কী বুঝতে চাইছে সেটা কারওরই বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম দাবি করছে, এই দিন পুতিনের তরফ থেকে আসলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধেরি হুমকি দেওয়া হয়েছে। সিরিয়াতে মার্কিন হামলার পর রাশিয়া নিজেকে সমলানোর চেষ্টা করছে। পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সাথে টেলিফোনে কথা হয়েছে। সাত বছর ধরে  রাশিয়ার গৃহযুদ্ধের সাথে সাথে এখন সিরিয়ার উপর মার্কিন হামলা দেশের রাজনৈতিক খুঁটি কে  নাড়িয়ে দিয়েছে।তাঁর সাথে পুনিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বিষয় নিয়েও কথা কথা বলেছেন।ক্রেমলিনের  কথা তে এমনটাই জানা গিয়েছে।

মার্কিন বিরোধী জোট গড়ে তোলার জন্য পুতিন এখন মরিয়া ভাবে চেষ্টা করে চলেছে তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিনের বীরুধে আনা অভিযোগের ১৫টি সদস্য দেশের মধ্যে  কেউ সমর্থন করেনি,  শুধু  চিন এবং বলিভিয়া রাশিয়ার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। সিরিয়া বিষয়  নিয়ে বিশ্বের ক্ষমতাশালী দেশগুলির মধ্যে প্রবল চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
এর জন্য গোটা বিশ্ব আড়াআ়ড়ি ভাবে  দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে।

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা বারিয়ে তুলতে  শুধু রাশিয়ার হুঁশিয়ারি নয় ক্রেমলিনের কয়েকটি পদক্ষেপও সাহায্য করছে। রাশিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বেশি করে আয়োডিন ও খাবার মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। রাশিয়া সিরিয়ার রাজধানী দামাস্কাসে যে মার্কিন বিমান হামলা করেছে তার কড়া নিন্দা করেছে।

সিরিয়ার  বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ৭ এপ্রিল  দুমায় রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করে নিজের দেশের সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে। যদিও আসাদ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবুও হোয়াইট হাউস তা মানতে রাজি নয়। মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার উপর চাপ বারাছে, তারা দাবি করছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আসাদকে সাহায্য করছে। শোনা যাচ্ছে, মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার কথা ভাবছে।

  ইতিমধ্যে গোটা বিশ্বে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মন্তব্য কে কেন্দ্র করে। হামলা শেষ হওয়ার পরে ট্রাম্প বলে,  “মিশন অ্যাকমপ্লিশড! আমরা জিতে গিয়েছি।”সাথে সাথে সোশ্যাল মিডিয়াতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে দেশবাসী। মার্কিন পূর্ব প্রেসিডেন্টে জর্জ বুশও আগে একই কথা বলেছিলেন। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধ হওয়ার পরে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট “মিশন অ্যাকমপ্লিশড” বলেছিলেন । ২০১১ সালে সেই ‘মিশন’ শেষ  হয়েছিল।  সোশ্যাল মিডিয়ায় তে জল্পনা ছড়াছে ট্রাম্প একই পথে হাঁটতে চলেছেন। মার্কিন সেনার আকাশ-হামলার পর দামাস্কাস এখন শ্মশানের মত স্তব্ধ হয়ে উঠেছে। চারদিক থেকে  ঘরবাড়ি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। যতদূর চোখ যাছে শুধু ধ্বংসস্তূপ দেখা যাছে।

এত সমালোচনা পরেও হোয়াইট হাউস নিজের অবস্থানে অনড় হয়ে আছে। মার্কিন রাষ্ট্রসংঘে র দূত নিকি হ্যালি বলেন, সিরিয়ায় যদি রাসায়নিক অস্ত্রের প্রয়োগ বন্ধ না করে তাহলে আবার হামলা হবে।
মস্কো যদিও মার্কিন নিযেধাজ্ঞার কে খুব একটা গুরুত্ব দিতে রাজি নয়। জানা  যাছে পুতিন প্রশাসন নিষেধাজ্ঞার পাল্টা জবাব দিতে বেশ কয়েকটি  মার্কিন পণ্যের আমদানি বন্ধ করার কথা ভাবছে ।