Modi openly talks about surgical strikes - সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে মুখ খুলেন মোদী

Modi openly talks about surgical strikes - সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে মুখ খুলেন মোদী

 

ভারত সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কথা সংবাদমাধ্যমকে জানানোর আগে পাকিস্তানকে জানানোর চেষ্টা করেছিল বুধবার  এমনটাই বলেন মোদী। পাক জেনারেল টেলিফোনে কথা বলতেও ভয় পাচ্ছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লন্ডনে প্রবাসী ভারতীয়দের এমন কথা জানান এক অনুষ্ঠানে।সাথে সন্ত্রাস নিয়ে পাক –সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করতেও ছাড়েননি।
মোদি জানান, ‘‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক শেষ হওয়ার পর পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল।স্ট্রাইকের কথা পাক সেনাবাহিনীকে প্রথম জানানোর জন্য আমিই নির্দেশ দিয়েছিলাম। ভারতের তরফ থেকে বেলা ১১ টা থেকে ওদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু শুরুতে ওরা ভয়ে পেয়ে ফোন ধরেনি। পরে দুপুরের দিকে ওদের সঙ্গে কথা হয়। এর পর সেই খবর সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হয়।’’এই কথা শুনে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার হলে উপস্থিত প্রবাসী ভারতীয়দের হাততালিতের শব্দ সোনা যায়। ২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সাফল্য নিয়ে এর আগে দেশে বিদেশের নানান অনুষ্ঠানে কথা বলেছেন নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু বুধবার লন্ডনের সেন্ট্রাল হলে মোদীর গলা থেকে শোনা যায় অনেক অজানা তথ্য, তিনি বলেন , ‘ভারত কী বাত,সবকে সাথ’।
বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে  মোদী পাক সন্ত্রাসবাদের বিরুধে আক্রমণ করার সুযোগ পেয়ে, সেই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি, তিনি বলেন, ‘‘সামনা-সামনি যুদ্ধের সাহস নেই বলেই ওরা পেছন থেকে হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু মোদী এর জবাব দিতে জানে।’’ মোদী সেই দিন পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসের কারখানা’ বলে ঊল্লেক্ষ করেছেন উরি হামলায় ১৯ জন ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনার কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘‘আমাদের সেনারা যখন তাঁবুতে ঘুমোচ্ছিল, সেই সময় জনা কয়েক কাপুরুষ মিলে হামলা চালায়। এর কড়া জবাব দেওয়ার দরকার ছিল।’’ তাঁর কথা , ‘‘সন্ত্রাস রফতানি করে যারা নিরিহ মানুষকে হত্যা করে, তাদের রেয়াত করা হবে না।’’ মোদী নাম না করে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে দেন।
তবে এরপরেও নরেন্দ্র মোদির ব্রিটেন সফরটা খুব একটা মধুর হয়নি। মোদি ব্রিটেন সরকারকেও সন্ত্রাসবাদের বিরুধে রুখে দাঁড়াতে ডাক দেন তিনি।যদিও দু’দেশই যে কোন রকম সন্ত্রাসবাদ রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে আগেও। তাদের মূল টার্গেট পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন গুলি। মোদি সফরের প্রথম দিনে শিল্পপতি বিজয় মালিয়ার ভারত থেকে পালিয়ে যাওয়ার কথাও তুলেছিলেন। কিন্তু এই বিষয়  নিয়ে কোনও দেশের তরফ থেকে সরাসরি কিছু বলেনি। ওয়াকিবহাল মহল কার্যত মেনে নিয়েছে ব্রিটেনের লম্বা ও জটিল আইনি প্রক্রিয়া মেনে মালিয়াকে ভারতে নিয়ে আসা অসম্ভব। বুধবার তিনি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন ব্রিটিশ প্রেসিডেন্ট যুবরাজ চার্লস ও থেরেসা মেসের  সাথে। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে ও বাকিংহাম প্যালেসে মোদীর  কথা হয়।

মোদি মঙ্গলবার রাতেই সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম থেকে লন্ডনে এসে পৌঁছন। ব্রিটিশ বিদেশমন্ত্রী বরিস জনসন স্বাগত জানান হিথরো বিমানবন্দরে।মোদির আগমন হয় কমনওয়েলথ-ভুক্ত রাষ্ট্রনায়কদের বৈঠকে। কমনওয়েলথ-ভুক্ত রাষ্ট্রনায়কদের মধ্যে অনেকের সাথেই তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে। বুধবার সকালে প্রবাসী ভারতীয় বহু মানুষ জমায়েত হয় সেন্ট জেমস কোর্ট হোটেলের সামনে স্বাগত জানানোর জন্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডাউনিং স্ট্রিটে প্রাতরাশে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে হয়, আলোচনার বিষয় ছিল ভিসা সমস্যা, সীমান্ত পারের সন্ত্রাস ও অভিবাসন নিয়ে। এই বিষয়ে কথা হয় দুই নেতার মধ্যে। ব্রিটেন আশ্বাস দিয়েছে বেশ কয়েকটি মউ আন্তর্জাতিক সৌরশক্তি জোটের সদস্য হবে ভারত।  ব্রিটেন পাকিস্তানের উপর ২০১৬-র সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করলে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সাফল্য জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর দক্ষতার প্রশংসা করেন, তিনি বলেন, “কেউ যদি ভারতে সন্ত্রাসবাদী পাঠায় এবং, ভারতিয়দের ওপর আক্রমণ করে, তাঁদের যদি সরাসরি যুদ্ধ করার ক্ষমতা না থাকে এবং তাঁরা যদি পিছন থেকে ছুরি মারে, তাহলে তাদের ভাষায় তাদেরকে জবাব দেওয়ার ক্ষমতা মোদি রাখে।” প্রবাসী ভারতীয়রা এরপর ‘ভারত মাতা কি জয়’র স্লোগান দেয়।

মোদির  গলায়  সোনা যায়, ভারতে সন্ত্রাসবাদী পাঠালে তাদের ভারতের তরফ থেকে কড়া জবাব দেওয়া হবে, এমন জবাব দেওয়া  হবে যা তারা সহজে ভুলতে পারবেনা। পরে বিবৃতিতে বিদেশমন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয় , লস্কর, জইশ, হিজবুল, হাক্কানি নেটওয়ার্ক, ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে কথা হয়েছে।