China has lowered nuclear weapons - চীন পারমাণু অস্ত্র নামিয়ে রেখেছে

China has lowered nuclear weapons - চীন পারমাণু অস্ত্র নামিয়ে রেখেছে

 

 

উত্তর কোরিয়ার ‘যুদ্ধবাজ’ নেতা কিম জং উন  পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে  করা সব পরীক্ষা বন্ধ রাখতে রাজি হলেন। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেছেন দেশ জুড়ে সক্রিয় ভাবে চলা  সমস্ত পরমাণু গবেষণাগার গুলি কেও বন্ধ করে দেবেন।  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিমের এই সিদ্ধান্তে খুব খুশি হয়েছেন। ট্রাম্প কিমের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন, তিনি টুইট করে লেখেন, “ পারমাণবিক বোমা, মিসাইল-সহ সবরকম পরীক্ষা বন্ধ করছে উত্তর কোরিয়া। সে দেশের মানুষ ও বিশ্ববাসীর জন্য এ তো খুবই খুশির খবর। ভবিষ্যতে বৈঠকের আশায় মুখিয়ে রয়েছি।”  উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন  আন্তর্জাতিক মহলকে বড় চমক দিল।  আগেই  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে আলোচনায় বসার আমন্ত্রন  বার্তা পাঠিয়েছিল
কিম জানায় , ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের আগে তিনি তাঁর দেশের সমস্ত পারমাণবিক গবেষণাগার গুলি তে চলা নানান পরীক্ষা নিরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া  হবে, তার সাথে গবেষণাগার গুলিও।এখন নতুন কোন ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হবেনা।কিমের এই কর্ম সূচি উত্তর কোরিয়ার রাজনীতিতে যে এক নতুন পর্ব শুরু করবে এমনটাই অনেকে মনে করছে।কিমকে উদ্দেশ্য করে কোরিয়ার সরকারি সংবাদ জানিয়েছে, “ইন্টার-কন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষা ২১ এপ্রিল থেকে দেশ জুড়ে বন্ধ হচ্ছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিয়ে যাতে কোনও প্রশ্ন ভবিষ্যতে  না ওঠে, সেই জন্য বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে দেশের উত্তরে নিউক্লিয়ার টেস্ট সাইট গুলো কেও ।’’
পিয়ংইয়ং শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, চীন আর কোন  পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করতে চায় না । দেশের সমস্ত পরমাণু পরীক্ষণ কেন্দ্র গুলি কেও বন্ধ করা হবে। আন্তর্জাতিক মহল কিমের এই সিদ্ধান্তে বেশ চিন্তিত, কারন গোটা বিশ্ব কে নানান সময় পরমাণু পরীক্ষণ, ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে এসেছেন  কিম তার এই পরিবর্তন সবাইকে ভাবাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিমের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে টুইট করে জানান, “উত্তর কোরিয়া সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা খুবই ভালো সিদ্ধান্ত”
কিন্তু উত্তর কোরিয়া কেন এই সিদ্ধান্ত নিল? যেই কিমের গলায়  হোয়াইট হাউসকে ধূলিসাৎ করার হুমকি সোনা জেত, সে কিনা উলটো সুর গাইছেন, কেন এমনটা হল?আসলে এর উত্তর রয়েছে  দেশের তীব্র আর্থিক সংকট ও রাজনৈতিক অভিমুখ পরিবর্তনের মধ্যে। উত্তর কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টি অফ কোরিয়ার সেন্ট্রাল কমিটি যারা কিনা শাসক দল তারা চায় নয়া রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু করতে। এর জন্য এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও ডাকা হয়েছে, কিমও সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন। সেখানে  সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে  রক্তাতের রাজনীতি আর অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে শএুতা না করে বরং অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে মিতিল ভাবে বিশ্বশান্তির উদ্দেশ্যে কাজ করা যাক। শুক্রবার কিমের তরফ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের সাথে শান্তি স্থাপনের জন্য  বৈঠক ডাকা হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের তরফ থেকে চীন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান হয়েছে ।
সোলে আয়োজিত শীতকালীন অধিবেশনের  উত্তর কোরিয়ার এই পরিবর্তনটা লক্ষ্য গিয়েছিল, সেই বৈঠক  সোল ও পিয়ংইয়ং কে এক টেবিলে নিয়ে এসেছিল। যা দীর্ঘ দিন ধরে আন্তর্জাতিক মহল করার চেষ্টা করেছিল। শুধু সেখানে থেমে থাকেনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আলোচনায় বসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। হয়ত আগামী মে বা জুন মাসে কিম ও ট্রাম্পের আলোচনায় বসাতে পারেন। পেন্টাগনও এই দুই রাষ্ট্র নায়কের  আলোচনার দিকে  চোখ রয়েছে। অন্যদিকে জাপান, উত্তর কোরিয়ার সাথে এই ব্যাবহার কে সুনজরে দেখছে না। জাপানের চিফ অফ ডিফেন্স কিমের এই সিদ্ধান্তে খুসি হননি।
সেই দেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, কিম এখন দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন কে তরান্বিত করতে চাইছেন,  সাথে তিনি প্রতিবেশী দেশ গুলির সজ্ঞে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য  আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। শাসকদল ইতিমধ্যে একটি বৈঠক করে,সেই বৈঠকের  বিষয়  ছিল দেশের অর্থনীতিকে কী ভাবে আরও মজবুত করা যায়  ও দেশবাসীর জীবনধারার মান কিভাবে  করা যায়। উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম সূত্র মারফত জানা যায়, সেই বৈঠকে ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু নতুন নীতি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত ঠিক করা হবে। আরও জানা যায়,  “আর কোনও পরমাণু বা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষণের প্রয়োজন নেই আমাদের। তাই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে পরমাণু পরীক্ষণ কেন্দ্রও।”